Head Master’s Desk

বিদ্যালয়ের প্রধান-এর কলমে “রাজবিদ্যা রাজগুহ্যং পবিত্রমিদমুত্তমম্। প্রত্যক্ষাবগমং ধর্মাং সুসুখং কর্তৃমব্যয়ম।।” জ্ঞান সমস্ত বিদ্যার রাজা, সমস্ত গুহ্যতত্ত্ব থেকেও গুহ্যতর, অতি পবিত্র এবং প্রত্যক্ষ রুপে আত্ম উপলব্ধি প্রদান করে বলেই ইহাই প্রকৃত ধর্ম। এই জ্ঞান অব্যয় এবং সুখসাধ্য। মহাপীঠ এই জ্ঞানপীঠে জ্ঞান -এর বিকাশই প্রকৃত ধর্ম। কলতানময় কচিকাঁচাদের কলরব কীভাবে বাগ্মীতায় রূপান্তরিত হয় এটাই আমাদের প্রকৃত কর্ম। এই মহান বিদ্যা নিকেতনের প্রতি সশ্রদ্ধ প্রণাম। অকৃত্রিম ভালোবাসা আমার অগনিত ছাত্র-ছাত্রীদের প্রতি। শ্রদ্ধা ও শুভেচ্ছা আমার বিদ্যালয়ের সমস্ত শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং শিক্ষাকর্মীদের প্রতি। বর্ণময় এই বিদ্যালয়ের বর্ণময়তা আমার প্রিয় শিক্ষক-শিক্ষিকাদের নিরলস প্রচেষ্ঠার ফসল। অধুনা সাফল্যের নবকলেবর তাঁদের প্রতি উৎসর্গ করে, শৈশব ও কৈশোরের জয়গান আরও দিকে দিকে মুখরিত হোক এই কামনা করি। ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়মানুবর্তিতা এবং সহানুভূতিশীলতা আমাকে আনন্দিত করে। আমার মনে হয় সহপাঠক্রমিক শিক্ষা শিশুদের সম্মোক বিকাশে অন্যতম মাধ্যম। অভিভাবক-অভিভাবিকাগণের প্রতি বিনম্র নিবেদন তাঁরা যেন তাঁদের ছেলে-মেয়েদের সহপাঠক্রমিক কার্যকলাপে আরও অনুপ্রাণিত করেন। তাদের নৈতিক ও বৌদ্ধিক বিকাশ ঘটাতে এবং ভবিষ্যতে সুনাগরিক করে গড়ে তুলতে খেলাধূলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বিজ্ঞানচর্চা, প্রবন্ধ বা বিতর্ক প্রতিযোগিতা ইত্যাদিতে প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ আবশ্যিক, যেগুলি আমরা সারাবছর ধরে করে থাকি। ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য যে সকল সরকারী প্রকল্প রয়েছে এগুলির উপযুক্ত প্রয়োগের দ্বারা ছাত্র-ছাত্রীদের সমস্ত সুবিধা পাইয়ে দিয়ে আমরা তাদের পাশে সর্বদাই রয়েছি। 8 বিদ্যালয়ের আলোকোজ্জ্বল অধ্যায়ের অন্যতম দীপশিখা দেবপ্রিয়া বর। ২০২৪ উচ্চ-মাধ্যমিক পরীক্ষায় রাজ্যে দশম স্থান অধিকার করেছে। গত ইংরেজি ২৯-শে আগষ্ট’২৪ (বৃহস্পতিবার) আমাদের সাথী, সম্মানীয় শিক্ষক মানিকলাল দাস মহাশয়ের ‘অমৃতলোক যাত্রাপথে’ আমরা বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে অশ্রুসিক্ত নয়নে তাঁকে বিদায় জানিয়েছিলাম। কৃতজ্ঞতা জানাই সমস্ত সরকারী ও বেসরকারী প্রতিষ্ঠানগুলিকে, যাঁরা সবসময় আমাদের পাশে থাকেন। বড় কোনো উন্নয়নমূলক কাজ কিংবা স্বাধীনতা দিবসের শোভাযাত্রায় ছাত্র-ছাত্রীদের চকোলেট, জল ইত্যাদি প্রদান – সবই আমাদের অনুপ্রাণিত করে। কৃতজ্ঞতা জানাই সেই সমস্ত সরকারী বা বেসরকারী সংস্থাকে যাঁরা আমাদের বিদ্যালয়ের কক্ষ, মঞ্চ প্রাঙ্গণ কিংবা খেলার মাঠ ব্যবহার করেন- এগরা মহকুমার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য। পরিশেষে স্মরণ করাই, আগামী ইংরেজী ২০২৬ খ্রীষ্টাব্দকে, আমাদের বিদ্যালয়ের শতবর্ষ উদ্যাপন। প্রাণভরা খুশির আবহে সমস্ত সংস্থা, সকল শ্রেণীর মানুষ, প্রাক্তনী, বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষক-শিক্ষিকা-শিক্ষাকর্মীদের অকৃপণ সহযোগিতা ঐ শুভক্ষণকে করুক চির স্মরণীয়। এই আশা নিয়ে, আপনাদের সহযোগিতা কামনা করে, বিদ্যালয়ের গৌরব-গাথাকে এগিয়ে নিয়ে চলার ব্রত পালনে শুভ কামনা প্রার্থনা করি। তাং- ১-লা জানুয়ারী, ২০২৫

দেবাশিস জানা
ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক।
এগরা ঝাটুলাল হাইস্কুল।
এগরা, পূর্ব মেদিনীপুর।